দাম বাড়ার পরও বাড়ছে কফির চাহিদাবিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে কফির দাম। সে হিসেবে কফির ব্যবহার না কমে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। এশিয়া মহাদেশে ক্যাফেইনের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাম বাড়ার পরও বাড়ছে কফির চাহিদা সিউলভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম ট্রিজের বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কফির দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে এ বছর পণ্যটির আমদানি ও ব্যবহার স্বল্প মেয়াদে কমতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার গত বছরকে ছাড়িয়ে যাবে। এ কারণে এশিয়ায় কফির বাজার দ্রুত বাড়ছে। অঞ্চলটির বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে বেশ কয়েকটি কফি চেইনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। ক্যাপিটাল ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রিজের বিশ্লেষকরা বলেন, চলতি বছর এশিয়ায় কফি ব্যবহার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। মূলত এ অঞ্চলের দেশগুলোয় ক্যাফে কালচারের বিস্তারকে ব্যবহার বৃদ্ধির বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রিজের দেওয়া তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে অ্যারাবিকা কফির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়ে এক দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছে। এর প্রধান কারণ ছিল বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদন ব্রাজিলে উৎপাদন ঘাটতি। ভয়াবহ খরা ও তুষারপাতের কারণে দেশটির কফি উৎপাদন খাতে গত বছর বিপর্যয় নামে। দেশটি এখনো এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি পাউন্ড কফির দাম বেড়ে ২০৩ দশমিক ৬ সেন্টে উঠে আসে। অথচ ২০১৯ সালের একই সময় প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ১০০ দশমিক ৫২। সে হিসাবে মহামারিপূর্ব অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে বাজারদর।
মূলত এক কাপ কফি তৈরিতে ১০ গ্রাম কফি বিন ব্যবহার হয়। ডিসেম্বরের আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি কাপ কফিতে ব্যবহৃত বিন বাবদ কোম্পানিগুলোকে ৪ দশমিক ৪৮ সেন্ট ব্যয় করতে হয়।
ট্রিজের বাণিজ্য তথ্য বলছে, ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ কফি আমদানিকারক দেশ। প্রথম অবস্থানে রয়েছে জাপান। এ অঞ্চলের আরও তিনটি শীর্ষ আমদানিকারক দেশ মালয়েশিয়া, চীন ও তাইওয়ান
কফির ভালো দাম পাওয়ায় কফি উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছে উৎপাদনকারী দেশগুলো। বিশেষ করে ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশেও বেড়েছে কফি উৎপাদন ও রফতানি।